এডিবির পূর্বাভাস

জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৯ শতাংশ

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দক্ষিণ এশিয়ার অনুমিত গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় যা অনেক কম।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দক্ষিণ এশিয়ার অনুমিত গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় যা অনেক কম। দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এডিবির ঢাকা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) এপ্রিল ২০২৫’ প্রতিবেদন তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এডিবির মূল প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রম অসন্তোষ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে আগের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। তবে তারা আশা করছে, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবারো বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে।

বাংলাদেশের চলমান অর্থবছরে পোশাক খাতে রফতানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, শিল্প খাতে অস্থিরতা এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশজ চাহিদা দুর্বল হওয়ায় প্রবৃদ্ধি কমবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিওং বলেন, ‘বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী করা যেতে পারে। বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে উৎসাহিত করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বাইরেও তার অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা উচিত। স্থিতিশীল অবকাঠামো বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নত করা, আর্থিক খাতের সুশাসন, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মার্কিন শুল্কারোপের বিপরীতে বাংলাদেশের করণীয় কী—এমন এক প্রশ্নের জবাবে কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে নতুন বাজার সৃষ্টি ও নতুন পণ্য উৎপাদনের প্রতি নজর দিতে হবে। মার্কিন শুল্কারোপে দেশটিতে পণ্যের চাহিদা কমে রফতানির চাহিদাও হ্রাস পেতে পারে।

এডিবি জানিয়েছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা, অপর্যাপ্ত বাজার তথ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতা এবং টাকার অবমূল্যায়নে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। অর্থবছর শেষে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। মূলত খাদ্যমূল্য বাড়ায় মূল্যস্ফীতির হার দুই অংকের ঘরে রয়েছে বলে জানায় এডিবি। আর ভবিষ্যতের জন্য চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। অন্যদেরও একই পথ অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়। বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ১.৬ শতাংশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে বলে জানায় এডিবি।

আরও